২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপ ২১৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ৭৮৫ কোটি কাতারি রিয়াল মুনাফা করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ সময় আগের বছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ২৮ শতাংশ। কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপ বলছে, এটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল। খবর অ্যারো টাইম।
গ্রুপটি জানিয়েছে, যাত্রী পরিবহন, কার্গো থেকে আয়, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও খরচ নিয়ন্ত্রণ—এ চার দিকেই বড় অগ্রগতি হয়েছে। আগের বছর মুনাফা ছিল প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ৫০ কোটি ডলার কম।
এ সময় কাতার এয়ারওয়েজের কার্গো বিভাগের আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে এটাই তাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স। বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণে বিনিয়োগ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবাই এ উন্নতির পেছনের মূল কারণ।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বাদর মোহাম্মদ আল-মির বলেন, ‘আমাদের ৫৫ হাজার কর্মীর অবদানেই এ সফলতা সম্ভব হয়েছে। পেশাদার গড়ে তোলা ‘‘কাতার এয়ারওয়েজ ২.০’’ কৌশলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’
কোম্পানিটি সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত মার্চে দোহায় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের আওতায় ‘ডি’ ও ‘ই’ নামে দুটি নতুন কনকোর্স চালু করা হয়। এতে ১৭টি নতুন বোর্ডিং গেট যুক্ত হয় এবং বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫০ লাখে।
২০২৪ সালের মে মাসে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজে বিশ্বে প্রথম বিমান সংস্থা হিসেবে স্টারলিংক ওয়াই-ফাই সংযোগ চালু করে।
এদিকে চলতি মাসে কাতারে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে কাতার এয়ারওয়েজ বোয়িংয়ের সঙ্গে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করে। চুক্তির আওতায় ২১০টি ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ কিনবে কোম্পানিটি, যার মধ্যে রয়েছে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৭৭এক্স সিরিজ। এসব উড়োজাহাজে ব্যবহার হবে জিই অ্যারোস্পেস ইঞ্জিন।